যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগান। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তুরস্ককে একপেশে করে ফেলে তাহলে তারা এক মূল্যবান বন্ধুকে হারাবে। আগামী ১৪ই জুন ব্রাসেলসে ন্যাটো সামিটের এক ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে সাক্ষাত হওয়ার কথা রয়েছে এরদোগানের। তার আগেই বাইডেনকে তিনি এমন হুঁশিয়ারি দিলেন। একই সঙ্গে আর্মেনিয়ায় গণহত্যাকে স্বীকৃতি দেয়ায় বাইডেনের সমালোচনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মিত্রতা ছিল এরদোগানের। কিন্তু জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতার হাতবদল হয়। প্রেসিডেন্ট হয়ে আসেন জো বাইডেন। তিনি আগে থেকেই তুরস্ক, সৌদি আরবের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছিলেন।
ফলে স্বাভাবিকভাবেই তুরস্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর প্রেক্ষিতে আঙ্কারা-ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্কের বিষয়ে প্রশ্ন করলে এরদোগান বলেন, যে তুরস্ককে একপেশে করে দেবে, সে মূল্যবান একটা বন্ধু হারাবে।
উল্লেখ্য, গত ২০ শে জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতা গ্রহণ করেন জো বাইডেন। কিন্তু তার পর পরই তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সাথে যোগাযোগ করেননি বরং অপেক্ষা করেছেন তিন মাস। এরপর গত এপ্রিলে এরদোগানকে ফোন করেন বাইডেন। তাদের মধ্যে এই ফোনকল এমন এক সময়ে ঘটে যখন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় অটোম্যান সাম্রাজ্যের চালানো আর্মেনিয়া গণহত্যাকে স্বীকৃতি দেয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেন বাইডেন। তার এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ তুরস্ক। এ বিষয়ে মঙ্গলবার এরদোগান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের উত্তেজনার কারণ কি? সেটা হলো তথাকথিত আর্মেনিয়া গণহত্যা। তিনি প্রশ্ন রাখেন, আর্মেনিয়াকে উপদেশ, পরামর্শ দেয়া ছাড়া আপনাদের সামনে কি আর কোনো সমস্যা নেই? ২০১৬ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মধ্যে সম্পর্কে উত্তেজনাকর আরো কয়েকটা ঘটনা তিনি উল্লেখ করেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সিরিয়া সংকটে কুর্দি যোদ্ধাদের সমর্থন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অথচ এই কুর্দিদেরকে তুরস্ক সন্ত্রাসীগোষ্ঠী বলে বিবেচনা করে। এরদোগান বলেন, প্রকৃতপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র যদি আমাদের মিত্র হয়,তাহলে তাদের কাকে সমর্থন করা উচিত আমাদের না সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর? দুর্ভাগ্যবশত তারা এখনও সন্ত্রাসীগোষ্ঠীকে সমর্থন করে আসছে। এরদোগান-বাইডেন সম্পর্ক নতুন করে সাজানোর ইচ্ছা আছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন এরদোগান। গত সপ্তাহে তিনি বলেন, তাদের সাক্ষাৎ যুক্তরাষ্ট্র-তুরস্কের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন যুগের অগ্রদূত হয়ে আসবে। ২০০৩ সাল থেকে তুরস্কের ক্ষমতায় থাকা এরদোগান বলেন, হোয়াইট হাউজে রিপাবলিক বা ডেমোক্রেট যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন তাদের সাথে সবসময়ই ভারসাম্যপূর্ণভাবে কাজ করেছি।
Feni online 24 radio station
বুধবার, ২ জুন, ২০২১
এরদোগানের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রকে
"Fenionline 24" radio station keep update bangla songs every day. Thanks for Visit our "feni online" 24 radio station website.